বর্তমান সময়ে দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) বাড়লেও দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় এক ডলার কমে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৪৬৫ ডলার। যা প্রাথমিক হিসাবে বলা হয়েছিল এক হাজার ৪৬৬ ডলার।
মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠক পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।
পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, 'টাকার মান কিছুটা কমে যাওয়ায় মাথাপিছু আয় এক ডলার কম হয়েছে। আগে প্রতি ডলারের দাম ৭৮ টাকা ১৫ পয়সা ধরা হয়েছিল। তা পরবর্তীতে ৭৮ টাকা ২৭ পয়সা হয়েছে। ফলে মাথাপিছু আয় এক ডলার কমেছে।'
এদিকে, ছয় শতাংশের বৃত্ত ভেঙে জিডিপি প্রবৃদ্ধি সাত শতাংশ ছাড়িয়েছে। প্রাথমিক প্রাক্কলনের তুলনায়ও প্রবৃদ্ধি কিছুটা বেড়েছে।
দেশের ইতিহাসে এই প্রথম জিডিপি প্রবৃদ্ধি সাত শতাংশের ঘর অতিক্রম করল জানিয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, 'বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) চূড়ান্ত হিসাবে, গত ২০১৫-১৬ অর্থবছরে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ১১ শতাংশ। প্রাথমিক প্রাক্কলন ছিল ৭ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ।'
২০১৪-১৫ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয় ৬ দশমিক ৫৫ শতাংশ, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ৬ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ। এর আগের অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ছিল ৬ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ।
তিনি বলেন, 'লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় জিডিপি প্রবৃদ্ধি বেশি হয়েছে। সরকারি সংস্থার হিসাব বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) মতো প্রতিষ্ঠান গ্রহণ করেছে। একনেক বৈঠকে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে জানানো হয়েছে।'
বর্তমানে জিডিপির আকার প্রায় সাড়ে ১৭ লাখ কোটি টাকা দাঁড়িয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী।
বিবিএসের হিসাবে, কৃষিখাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২ দশমিক ৭৯ শতাংশ। শিল্প খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১১ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ এবং সেবাখাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬ দশমিক ২৫ শতাংশ।

Post a Comment
Thenks for your comments.