Halloween Costume ideas 2015

Behiond The Seen of Bangladesh

Articles by "ক্রিকেট"



 মাশরাফি মুর্তজা, সাকিব আল হাসান, সৌম্য সরকার, মুস্তাফিজুর রহমান ও মেহেদী হাসান মিরাজ...। এক নিঃশ্বাসে যাদের নাম বলা হল তারা বাংলাদেশের ক্রিকেটের এক একটি রত্ন। এ নিয়ে কারও আপত্তি থাকার কথা নয়। আরেকটি অনাপত্তির বিষয় হল, এরা সবাই বৃহত্তর খুলনা অঞ্চলের খেলোয়াড়।

শুধু বর্তমান নয়, নিকট ও সুদূর অতীতের দিকে তাকালে দেখা যাবে খুলনা খেলোয়াড়দের খনি। ক্ষণজন্মা খেলোয়াড়প্রসবা এই অঞ্চলে যেমন বইছে রূপসা, চিত্রা, কপোতাক্ষ, নবগঙ্গা নদী, তেমনি খেলোয়াড় তৈরির ফল্গ–ধারাও বইছে এখানে। বাংলাদেশের ক্রিকেটে স্বর্ণসাফল্যের মিছিলে সম্মুখ সারিতে রয়েছেন খুলনা অঞ্চলের বহু তারকা খেলোয়াড়।

ওয়ানডে ও টি ২০ অধিনায়ক মাশরাফি মুর্তজা থেকে শুরু করে সর্বশেষ ক্রেজ ‘বিস্ময় বালক’ মেহেদী হাসান মিরাজ এর উজ্জ্বল উদাহরণ। মাগুরা থেকে উঠে এসেছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান, দেশের সর্বশেষ দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্ত জেলা ‘ব্যাঘ্রতদ’ খ্যাত সাতক্ষীরা বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছে ‘দ্য ফিজ’ মুস্তাফিজুর রহমান এবং সৌম্য সরকারের মতো ক্রিকেটারের।

বাঁ-হাতি কাটার মাস্টার মুস্তাফিজুর রহমান এক বছরের কিছু সময় আগে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের অভিষেকলগ্ন রাঙিয়েছেন দুরন্ত গতির বোলিং দিয়ে। তার আগে জাতীয় দলে অভিষেক হয় অলরাউন্ডার সৌম্য সরকারের। বছরের শেষে এসে আবারও চমক। এই চমকের নাম মেহেদী হাসান মিরাজ। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ডেব্যু টেস্ট সিরিজে ১৯ উইকেট নিয়ে যিনি দেশে-বিদেশে ক্রিকেটবোদ্ধাদের মুগ্ধতা কেড়ে নিয়েছেন। তার ঘূর্ণি জাদুতেই কুপোকাত হয়ে ইংল্যান্ড ঢাকা টেস্টে ধরাশায়ী হয়েছে তিন দিনে।

অভিষেকেই এমন মোহনীয় বোলিং কারিশমা রাতারাতি বদলে দিয়েছে তার পৃথিবী। খুলনার খালিশপুরের হাউজিং স্টেট এলাকার ছেলে মিরাজ এখন বাংলাদেশের সবচেয়ে নন্দিত তরুণ। ইংল্যান্ডের ক্রিকেটবোদ্ধারাও কুর্নিশ জানাচ্ছেন তার বোলিং প্রতিভাকে। স্বর্ণখনির মতো খুলনা যেন খেলোয়াড়দের খনি।

খুলনা বিভাগকে বলা হয় ক্রীড়াবিদদের উর্বরভূমি। নন্দিত ক্রিকেটারদের পাশাপাশি এ অঞ্চল থেকে উঠে এসেছেন অনেক তারকা ফুটবলার, অ্যাথলেট, সাঁতারু ও শুটার। তবে আন্তর্জাতিক মঞ্চে সবচেয়ে বেশি আলো ছড়িয়েছেন এ অঞ্চলের ক্রিকেটাররা। সাম্প্রতিক সময়ে সব মিলিয়ে খুলনা বিভাগের ১৩-১৪ জন ক্রিকেটার রয়েছেন যারা নিয়মিত জাতীয় দলে খেলছেন বা জাতীয় দলে যাওয়া-আসার মধ্যে আছেন।

অবসরে গেছেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও বর্তমান নির্বাচক মি. ফিফটিখ্যাত কুষ্টিয়ার হাবিবুল বাশার। যশোরের সৈয়দ রাসেলের অলিখিত অবসর হয়ে গেছে। আবদুর রাজ্জাক ঘরোয়া ক্রিকেটে এখনও আলো ছড়াচ্ছেন। এ অঞ্চল থেকে আরও উঠে এসেছেন যশোরের তুষার ইমরান, মেহেরপুরের ইমরুল কায়েস, মাগুরার সাকিব আল হাসান, বাগেরহাটের রুবেল হোসেন, সাতক্ষীরার রবিউল ইসলাম শিবলু, ঝিনাইদহের আল-আমিন হোসেন ও কুষ্টিয়ার এনামুল হক বিজয়। এ বছর যোগ হল আরও দুটি নাম। খুলনার নূরুল হাসান সোহান ও মেহেদী হাসান মিরাজ। কী জাদু আছে বৃহত্তর খুলনা অঞ্চলের মাটিতে যে, এখান থেকে এমন প্রতিভাধর খেলোয়াড় উঠে আসে!

বর্তমানে অন্যতম নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন মনে করেন, ‘এ নিয়ে গবেষণা করা যেতে পারে।’ কোচ সরওয়ার ইমরানের ধারণা, এই অঞ্চলের মানুষ ক্রীড়াপ্রেমী।

সরওয়ার ইমরান বলেন, ‘বিশেষ কোনো কারণ বলা কঠিন। আমার যেটা মনে হয়, এই অঞ্চলের ছেলেরা খেলার প্রতি বেশি আগ্রহী। এখানকার ছেলেদের মানসিকতা অনেক শক্ত। শারীরিকভাবেও তারা বেশি ফিট। অন্য কোনো কারণও থাকতে পারে। এ অঞ্চলের কোচরা হয়তো অনেক ভালো। এখানকার সংগঠকরা দক্ষ এবং নিবেদিতপ্রাণ হতে পারেন। এছাড়া পরিবেশটাও বড় একটা পার্থক্য গড়ে দেয়।’

সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার বলেন, ‘খুলনা বিভাগ থেকে এত ক্রিকেটার কেন উঠে আসে এটা গবেষণার বিষয় হতে পারে। এত ছোট একটা দেশ, সেখানেও নির্দিষ্ট একটি অঞ্চলের ছেলেরা জাতীয় দলে দাপটের সঙ্গে খেলে যাচ্ছে। তা-ও ধারাবাহিকভাবে। এই অঞ্চলের মাটিও হয়তো খেলোয়াড়দের উপযোগী। খুলনা ক্রিকেটের আত্মা। ক্রিকেটার তৈরির অনেক কারণ থাকতে পারে। এখানকার মাঠে ছেলেরা অনেক বেশি ক্রিকেট খেলে। খেলায় তারা হয়তো বেশি সময় দেয়। শুধুই যে খেলোয়াড় উঠে আসে তা কিন্তু নয়, সবাই ভালোমানের এবং দীর্ঘদিন জাতীয় দলে খেলার পণ করেই আসে।’

এ অঞ্চলের সর্বশেষ ক্রেজ মেহেদী হাসান মিরাজ আপাতত এ নিয়ে বিশ্লেষণে যেতে চাইলেন না। কীভাবে জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার পথ তৈরি করলেন জানতে চাইলে মিরাজ বলেন, ‘আমার লক্ষ্যই ছিল ক্রিকেটার হওয়া।’

মাশরাফি বলেছেন, ‘মানসিকতাই এই অঞ্চলের খেলোয়াড়দের ক্রিকেটার বানিয়ে তোলে।’

যশোরের কিউরেটর জাহিদ রেজা বাবু এবার চট্টগ্রাম টেস্টে দারুণ উইকেট বানিয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এই অঞ্চলের খেলোয়াড়দের মধ্যে বোলারই বেশি। বিশেষ করে পেস বোলার। এখানে একটা ধারাবাহিকতা এসে গেছে। তারকাদের অনুসরণ করতে পছন্দ করে তারা। একজনকে দেখে আরেকজন পেসার হতে চায়। যেমন মাশরাফি পেসার হওয়ার পর অনেকেই এসেছে। ডলার মাহমুদ, সৈয়দ রাসেল, রুবেল হোসেন, আল-আমিন, মুস্তাফিজসহ অনেকেই। এখানকার ছেলেরা পরিশ্রমী। তাদের একটা লক্ষ্য স্থির হয়ে গেছে।’

তিনি বলেন, ‘এখানে মাটির কোনো গুণ রয়েছে এমন কথা আমি বলব না। বরং এখানকার ছেলেরা সুযোগ-সুবিধা কম পায়। প্রকৃতিগতভাবেই সুইং পায় এরা। কেউ ভালো করলে ছেলেরা তাকে অনুসরণ করে। সৌম্য ব্যাটিংয়ে ভালো করলে হয়তো আরও ব্যাটসম্যান উঠে আসবে এখান থেকে।’

সাংগঠনিক দক্ষতার কথাও তুলে ধরলেন তিনি। জাহিদ রেজা বলেন, ‘এখানকার সংগঠকরা ইতিবাচক। তারা তাদের ছেলেদের জাতীয় দলে দেখতে চান। এবার ঢাকা লীগে মোহামেডানের হয়ে যশোরের হাসানুজ্জামান ঝড়ো ব্যাটিং করেছে। আশা করি, তার মতো আরও ব্যাটসম্যান উঠে আসবে এখান থেকে।’

সূত্র: যুগান্তর

মুশফিকের বরিশাল বুলসের ১৪৯ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ৯ উইকেটের বিশাল জয় পেয়েছে সাকিবের ঢাকা ডায়ানামাইটস। দুই ওপেনার মেহেদি মারুফ এবং কুমার সাঙ্গাকারার আক্রমণাত্মক ব্যাটিং জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেয় ঢাকাকে। 

তারই সুবাদে ২৪ বল হাতে রেখে ৮ উইকেটের বিশাল জয় পেয়েছে ঢাকা ডায়ানামাইটস। 

নবম ওভারে তাইজুল ইসলামের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ২৪ বলে ৩০ রান করে সাজঘরে ফেরেন শ্রিলংকান লিজেন্ড সাঙ্গাকারা। এরপর আরো ক্ষুরধার হয় মেহেদি মারুফের ব্যাট। ম্যাচের শুরুতে নেমে শেষ পর্যন্ত দুর্দান্ত ব্যাটিং করে ৪৫ বলে ৭৫ রান করে  অপরাজিত থাকেন। 

মেহেদী মারুফের সাথে সর্বশেষ যোগ দেয়া মোসাদ্দেক হুসাইন ৫ বলে ১০ রানে অপরাজিত থাকেন। 

সাঙ্গাকারা আউট হলে ব্যাটিংয়ে আসেন অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। ২৩ বলে ২০ রান করে ১৫তম ওভারের শেষ বলে মনির হুসাইনের বলে আউট হন সাকিব। 

এর আগে, ব্যাট করতে নেমে ২০ ওভার শেষে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৪৮ রান সংগ্রহ করে মুশফিকের বরিশাল বুলস।  মুশফিক এবং নাফিস দুজনই হাফ সেঞ্চুরি করেছেন।

প্রথম ৮ ওভারের মধ্যে তিন উইকেট হারিয়ে কিছুটা ব্যাকফুটে ছিলো বরিশাল বুলস। এরপর শাহরিয়ার নাফিস এবং মুশফিকুর রহিমের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে স্কোর বোর্ডে যোগ হয় ১৪৮ রান।

৩৪ বলে ৫৪ রানের অসাধারণ ইনিংস খেলে মোহাম্মাদ শহিদের বলে বোল্ড হয়ে ফিরে যান নাফিস। অপর দিকে ৩৬ বলে ৫০ রানে অপরাজিত থাকেন মুশফিক। তার সাথে ব্যাটিংয়ে যোগ দিয়ে মাত্র ৬ বলে ৩ রান নিয়ে আউট হন থিসারা পেরেরা। এরপর এমরিট ১ রান করে ফিরলে ব্যাটে নামে মেহেদি হাসান।

টস জিতে আগে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন ঢাকার দলপতি সাকিব আল হাসান। বরিশালের হয়ে ব্যাট হাতে ইনিংস শুরু করতে আসেন শামসুর রহমান এবং দিলশান মুনাবেরা। আগে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় বরিশাল। ইনিংসের তৃতীয় ওভারে মোহাম্মদ শহীদের লাফিয়ে উঠা বলের লাইন মিস করেন ওপেনার শামসুর রহমান। স্লিপে দাঁড়ানো মেহেদি মারুফের হাতে ধরা পড়ার আগে শামসুর রহমান করেন ১০ বলে ৬ রান। দলীয় ১০ রানের মাথায় প্রথম উইকেট হারায় বরিশাল।

ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারে মুনাবেরাকে ফেরান আন্দ্রে রাসেল। পয়েন্টে নাসির হোসেনের দুর্দান্ত এক ক্যাচে বিদায় নেন ১২ রান করা মুনাবেরা। দলীয় ২৮ রানের মাথায় দ্বিতীয় উইকেটের পতন ঘটে বরিশালের। এরপর জুটি গড়ার চেষ্টা করেন মুশফিক এবং ডেভিড মালন। ইনিংসের অষ্টম ওভারে সাকিবের ঘূর্ণিতে ব্রাভোর হাতে সহজ ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ১৬ রান করা মালন। দলীয় ৪৪ রানের মাথায় বরিশালের তৃতীয় উইকেটের পতন ঘটে। 

পাঁচ ম্যাচের সিরিজ খেলতে বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছে ইংল্যান্ড ক্রিকেট দল। ঢাকা টেস্টের হার এখনো ভুলতে পারেননি ইংলিশ ব্যাটসম্যান জো রুট। তবে ভারতে আসন্ন টেস্ট সিরিজে তার দল ভালো খেলবে বলে জানান রুট। 

হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর বাংলাদেশের বিপক্ষে তিন ওয়ানডে সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতলেও, দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজটি আর জিততে পারেনি ইংল্যান্ড। চট্টগ্রাম টেস্ট ২২ রানে জিতলেও, ঢাকা টেস্ট ১০৮ রানের বড় ব্যবধানে হেরে সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ করে ইংলিশরা। এতে ইংল্যান্ড দলকে নিয়ে সমালোচনায় মেতে উঠেন সমালোচকরা। সেই সমালোচনা আরও বড় আকার ধারন করে, ভারত সফরটি আসন্ন হওয়ায়।

তিনি বলেন, "বাংলাদেশের কাছে অমন হার যন্ত্রণাদায়ক। তবে ভারতের বিপক্ষে আসন্ন টেস্ট সিরিজে ইংল্যান্ড ভালো খেলবে।"

তবে সমালোচকদের ভাষ্য, "আসন্ন ভারত সফরে হোয়াইটওয়াশ হবে ইংল্যান্ড। আসন্ন ভারত সফরে নাকানি-চুবানি খাবে ইংলিশরা।" এমন সব ভবিষ্যৎবাণী শুধুমাত্র সমালোচকরাই করেননি, করেছেন ইংল্যান্ডের অনেক সাবেক অধিনায়ক মাইকেল ভন ও নাসের হুসেইনও।

তবে এমন সমালোচনাকে ভালোভাবেই আমলে নিচ্ছেন ইংল্যান্ডের তারকা ব্যাটসম্যান রুট। কারণ সমালোচকদের পাক্কা জবাব দিতে চান তিনি, "দল হিসেবে ভারত ভয়ংকর। তবে এটি নিয়ে আমরা ভয় পাচ্ছি না। আমরা সবাইকে দেখিয়ে দিতে যাই- আমরা ভালো খেলতে পারি। ভারতের মাটিতে ভালো খেলা আমাদের পক্ষে সম্ভব।"

বেলিসের বক্তব্য থেকেও বুঝা যায়- রুটের মত বাংলাদেশ সফরে ঢাকা টেস্টের হার এখনও পীড়া দেয় বেলিসকেও। সেই পীড়া ভারত সফরে আরও বেড়ে গেলে কি অবস্থা হবে ১৩৯ বছর ধরে টেস্ট খেলা ইংল্যান্ড দলের, তা সময়ই বলে দিবে।

রিশাল বুলস ও চিটাগাং ভাইকিংসের ম্যাচটি বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। বিকাল ৪টা ১০ মিনিটে মাঠের সর্বশেষ অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে অফিশিয়ালি ম্যাচ বাতিলের ঘোষণা দেন ম্যাচ রেফারি। 

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে আজ সকাল থেকেই গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি শুরু হয় মিরপুরে। দুপুরের পর বৃষ্টির বেগ কিছুটা বেড়ে যাওয়ায় ম্যাচের আশা কমে আসে।  

বৃষ্টির কারণে গতকাল বিপিএলের প্রথম দিনের দুটি ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়। এ নিয়ে বিপিএলের প্রথম তিনটি ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেসে গেল।

তবে এ মুহূর্তে বৃষ্টি থামায় দ্বিতীয় ম্যাচকে ঘিরে আশা জাগছে। বৈরী আবহাওয়া ও বৃষ্টির কারণে গতকাল থেকেই কভার দিয়ে ঢাকা পুরো মাঠ। সন্ধ্যা সাতটায় দিনের অপর ম্যাচে মাশরাফি বিন মর্তুজার কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের প্রতিপক্ষ সাকিব আল হাসানের ঢাকা ডায়নামাইটস। 

দলে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের বড় বড় তারকারা থাকলেও বিদেশি খেলানো যাবে সর্বোচ্চ চার জন। এক্ষেত্রে কাকে রেখে কাকে দলে নেয়া হবে সেটি নিয়েই সমস্যায় পড়েছেন ঢাকা ডায়নামাইটসের অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। 

গত আসরে রংপুর রাইডার্সে খেলা সাকিব এবার ঢাকার নেতৃত্ব দেবেন। সাকিবের দলে বিদেশি তারকাদেরও কমতি নেই। ডায়নামাইটসের গত আসরের অধিনায়ক কুমার সাঙ্গাকারা আছেন এবার, সঙ্গে আছেন লঙ্কান কিংবদন্তি মাহেলা জয়াবর্ধনেও। 

এদিকে টি-টোয়েন্টি স্পেশালিস্ট ডোয়াইন ব্রাভো ও আন্দ্রে রাসেল তো আছেনই। এছাড়াও গত বিপিএলের সেঞ্চুরিয়ান এভিন লুইস, রবি বোপারা, দক্ষিণ আফ্রিকান অলরাউন্ডার ওয়েইন পার্নেল, লঙ্কান অলরাউন্ডার সিকুগে প্রসন্ন, পাকিস্তানি তরুণ লেগ স্পিনার উসামা মির।

এই তারকাদের মধ্য থেকে কোন চারজনকে নেয়া হবে সেটি নিয়েই সমস্যার কথা জানালেন সাকিব, 'কাজটা একটু কঠিন তো হয়ই'। কোটা অনুযায়ী চারজন বিদেশি ক্রিকেটার খেলতে পারবে। আমার দলে অন্তত ৬-৭ জন আছে খেলার মত। সবাইকে তো খেলাতে পারব না। টিম ম্যানেজমেন্ট আমরা সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নেব। 

শনিবার টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় দিনে নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলবে ঢাকা ডায়নামাইটস। 



শারজাহ টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে চালকের আসনে রয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েইটের আদ্যন্ত ব্যাটিং ও জেসন হোল্ডারের দুর্দান্ত বোলিংয়ে সিরিজে প্রথম জয়ের স্বপ্ন দেখছে ক্যারিবিয়রা।  

তৃতীয় দিন শেষে পাকিস্তানের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ৮৭ রান। আজহার আলি ৪৫ ও সরফরাজ আহমেদ ১৯ রানে অপরাজিত। 

৫৬ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করা পাকিস্তানের টপ অর্ডারে ধস নামান হোল্ডার। প্রথমে পাকিস্তানের উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান সামি আসলামকে জোসেপের ক্যাচে পরিণত করেন হোল্ডার। এরপর ব্যাটিং ভরসা আসাদ শফিক ও ইউনুস খানকে রানের খাতাই খুলতে দেননি এই পেসার।

অধিনায়ক মিসাবাহও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। চেইজের বলে উড়িয়ে মারতে গিয়ে বিশুর ক্যাচে পরিণত হন মিসবাহ।

ব্যক্তিগত ৯ রানে ফিরে যেতে পারতেন সরফরাজ। কিন্তু গ্যাব্রিয়েলের 'নো' বলের কল্যাণে রক্ষা পান এই উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান। লড়াইয়ের পুঁজি পেতে তাই আজহার-সরফরাজের ওপরই ভরসা করছে পাকিস্তান।  

এর আগে মঙ্গলবার শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ৬ উইকেটে ২৪৪ রান নিয়ে খেলা শুরু করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বেশিক্ষণ টিকেননি অধিনায়ক হোল্ডার। তবে ব্র্যথওয়েইটকে দারুণ সঙ্গ দেন আট নম্বর ব্যাটসম্যান দেবেন্দ্র বিশু। অষ্টম উইকেটে এই দুই জনে গড়েন ৬০ রানের জুটি। সিরিজে প্রথমবারের মতো লিড পায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

বিশুকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙার পর দ্রুত শেষ দুই উইকেটও তুলে নেন ওয়াহাব। ৮৮ রানে ৫ উইকেট নিয়ে তিনিই দলের সেরা বোলার। 

ইনিংসের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত খেলা ব্র্যাথওয়েইট অপরাজিত থাকেন ১৪২ রানে। তার ৩১৮ বল স্থায়ী ইনিংসটি গড়া ১১টি চারে। 

প্রথম ইনিংসে পাকিস্তান করেছিল ২৮১ রান। জবাবে ব্র্যাথওয়েইটের আদ্যন্ত ব্যাটিংয়ে ৩৩৭ রান করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ৫৬ রান পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করা পাকিস্তানের লিড হয়েছে ৩১ রান। হাতে আছে ৬ উইকেট।

বেন স্টোকসকে বোল্ড করার পর সামরিক কায়দায় তাকে স্যালুট করলেন সাকিব আল হাসান। মিরপুরে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টে স্টোকসের (২৫) স্ট্যাম্প ভাঙা মাত্রই এমন উদযাপন করেন সাকিব।

এমন উদযাপন আগে দেখা যতে ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লীগে। উইকেট পেলেই এমন উদযাপন করেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেসার কটরেল। গত বছর ইংল্যান্ডের ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে একই দৃশ্য দেখিয়েছেন মারলন স্যামুয়েলসও। 

গ্রেনাডা টেস্টে সেটিও ছিল তৃতীয় দিনের বিকেল। দেবেন্দ্র বিশুর বলে আউট হয়ে স্টোকস মাঠ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় স্যালুট ঠুকে দেন মারলন স্যামুয়েলস।

এবার সেটিরই পুনরাবৃত্তি দেখালেন সাকিব। এর আগে ওয়ানডে সিরিজে জস বাটলার আউট হওয়ার পর বাংলাদেশ দলের উদযাপন নিয়ে কম জল ঘোলা হয়নি। বাটলার মাঠে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিলেন, মাঠের বাইরেও বলেছিলেন নিজের অসন্তুষ্টির কথা। 

এবার স্টোকস অবশ্য স্বাভাবিকভাবেই নিয়েছেন সাকিবের উদযাপন। ম্যাচ শেষে ফেইসবুকে বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি মজাও করলেন। 

'আমাদেরকে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য ধন্যবাদ বাংলাদেশ'। 'টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজ ছিল অসাধারণ। এদেশের মানুষ, নিরাপত্তকর্মী ও অবশ্যই সাকিব আল হাসানকে স্যালুট'!


ভারতের ৫০০ কোটি রুপির দুর্নীতির ঘটনাকে সবচেয়ে বড় টেলি-দুর্নীতি বলা হয়ে থাকে। এ ঘটনায় মূল অভিযুক্ত ২৩ বছরের ভারতীয় তরুণ সাগর ওরফে শ্যাগি। আর তিনি এখনও ধরা-ছোঁয়ার বাইরে আছেন। ঘটনাটি তদন্ত করতে নেমে বেশ কিছু চমকপ্রদ তথ্য হাতে পেয়েছে পুলিশ।

শ্যাগির সঙ্গে ভারতীয় টেস্ট ক্রিকেট অধিনায়ক বিরাট কোহলির পরিচয় আছে- এমন তথ্যে পুলিশ চমকে গেছে। বিষয়টা হলো কোহলির কাছ থেকে ৩ কোটি টাকার একটি অডি গাড়ি কিনেছিল দুর্নীতিবাজ শ্যাগি।

মহারাষ্ট্র পুলিশের ডিসিপি পরাগ মানেরে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে জানিয়েছেন, "শ্যাগির কাছ থেকে আমরা ৩ কোটি টাকার একটি অডি R-8 গাড়ি বাজেয়াপ্ত করেছি। গাড়িটি বিরাট কোহলির কাছ থেকে কিনেছিল সাগর।" গাড়িটি আহমেদেবাদ থেকে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে এবং যা থানায় নিয়ে আসা হচ্ছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রেমিকার জন্য ওই গাড়িটি কিনেছিল শ্যাগি। তবে ভারত অধিনায়কের সঙ্গে এই দুর্নীতির কোনো সম্পর্ক নেই। গাড়ি বিক্রির সময় তিনি শ্যাগির পরিচয় জানতেন না বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের সন্দেহ, দেশ ছেড়ে পালিয়েছে শ্যাগি। বোন রিমাকে সঙ্গে নিয়ে দুবাইয়ে লুকিয়ে আছে বলে সন্দেহ পুলিশ কর্মকর্তাদের।

ভুয়া কল সেন্টার তৈরি করে মার্কিন নাগরিকদের প্রতারণা করার অভিযোগ সাগরের বিরুদ্ধে। আমেরিকানদের ফোন করে আয়করের দপ্তরের প্রতিনিধি বলে পরিচয় দিত শ্যাগির কর্মীরা। কর না মেটালে গ্রেপ্তারের হুমকি দিয়ে টাকা দাবি করা হত। ১০ থেকে ২০ হাজার মার্কিন ডলার দাবি করলেও ৩-৫ হাজার ডলারে রাজি হয়ে যেতেন তারা। এর পর ক্যাশ কার্ড থেকে প্রতারণার অর্থ জোগাড় করত শ্যাগি ও তার দল। কিন্তু, এক কর্মী পুলিশের কাছে মুখ খুলে দিলে, গোটা বিষয়টি প্রকাশ্যে চলে আসে।



জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে বিশাল সংগ্রহের পথে রয়েছে শ্রীলঙ্কা। প্রথম দিনের খেলা শেষে শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ ৪ উইকেটে ৩১৭ রান। উপুল থারাঙ্গা ১৩ ও ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা ১০ রানে অপরাজিত আছেন।

নিয়মিত অধিনায়ক অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউসের চোটে সিরিজে দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন রঙ্গনা হেরাথ।

মন্থর উইকেটে জিম্বাবুয়ের পেসারদের আঁটসাঁট বোলিংকে কাজে লাগিয়ে ১২৩ রানের উদ্বোধনী জুটিতে দলকে দারুণ সূচনা এনে দেন করুনারত্নে-কৌশল সিলভা। সাতটি চারে ৫৬ রান করা করুনারত্নেকে আউট করে স্বাগতিকদের ‘ব্রেক থ্রু’ এনে দেন ক্রেমার।

ম্যালকম ওয়ালারের বলে বাজে এক শটে ফিরেন অন্য উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান সিলভা। ছয় রানের জন্য টানা দ্বিতীয় শতক পাননি এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান। ১১টি চারে ৯৪ রান করতে তিনি খেলেন ১৯৪ বল।

এদিন ওয়ানডে মেজাজে ১০৪ বলেই সেঞ্চুরি করেন কুশল পেরেরা। দিনের শেষ দিকে আউট হওয়ার আগে ১১০ রান করেন বাহাতি এই ব্যাটসম্যান। তার ১২১ বলের ইনিংসটি ১৫টি চার ও দুটি ছক্কা সমৃদ্ধ। বাকি সময়টুকু নিরাপদেই কাটিয়ে দেন থারাঙ্গা-ডি সিলভা।

মাহমুদউল্লাহ আউট হওয়ার পর ইএসপিএন ক্রিকইনফোর কমেন্টারি, ‘শেষ মুহূর্তে কী বোধ-বুদ্ধিটাই হারিয়ে ফেললেন মাহমুদউল্লাহ!’ ‘এ কেমন শট খেললেন তিনি!’ এ তো পুরোপুরি আত্মঘাতী! খুব সহজেই, যে কেউ বলটাকে সোজা ব্যাটে ডিফেন্স করে দেবে। স্লো উইকেটে জাফর আনসারির নিচু হয়ে আসা বলটি ব্যাট পেতে দেয়াই ছিল মাহমুদউল্লাহর মত ব্যাটসম্যানের কাছ থেকে তখনকার মুহূর্তের চাওয়া। তাতে ১২৮ রানের লিড, সঙ্গে হাতে ৮ উইকেট নিয়ে দিন শেষ করতে পারবে বাংলাদেশ।

শুধু কি নিজের উইকেট? না ‍পুরো দলকেই চাপে ফেলেছেন মাহমুদউল্লাহ! দিন শেষে দলের প্রতিনিধি হয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসা মেহেদী হাসান মিরাজ সে কথাই বললেন, ‘রিয়াদ(ভাই)যদি থাকত আমাদের জন্য ভালো হত। কিন্তু দূর্ভাগ্যবশত আউট হয়ে গেছেন।’

কিন্তু দিনের শেষ বলে ওরকম শট কেন? স্কোরবোর্ড দেখলে কিছুটা অনুমান করা যাবে। মাহমুদউল্লাহ যখন আউট হলেন তখন তার নামের পাশে ৪৭ রান। টেস্টে গত চার ইনিংসে নেই কোনো হাফসেঞ্চুরি কিংবা তার বড় ইনিংস। তাই দিনের শেষ বলে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে নিশ্চিন্ত থাকতে চেয়েছিলেন! তৃতীয় দিনটি হয়ত শুরু করতে চেয়েছিলেন নতুন করে! কিন্তু সেই সুযোগ মিলল কই।

অযাচিত শট নিয়ে মিরাজের ব্যাখ্যা, ‘ব্যাটসম্যানরা যে কোন বলেই আউট হতে পারে। ব্যাটসম্যানদের সুযোগ কিন্তু একটাই। কিন্ত বোলাররা সুযোগ অনেক বেশি পায়্। ব্যাটিং করার সময় সিদ্ধান্ত একটু এদিক-সেদিক হলেই আউট হয়ে যায়। রিয়াদ ভাই অনেক ভালো ক্রিকেটার। অনেক অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান। আউট হতেই পারে। কেউতো আর ইচ্ছে করে আউট হতে চায় না।’

বাংলাদেশ এই মুহূর্তে এগিয়ে আছে ১২৮ রানে। ইংল্যান্ডের সামনে যে লক্ষ্যই ছুড়ে দেওয়া হোক, সেটি নিয়েই লড়াইয়ের প্রত্যয় মিরাজের, ‘প্রথম ইনিংসে আমাদের ভালো একটা জুটি হয়েছে। যদিও এর পর দ্রুত উইকেট পড়ে গেছে। আমাদের যারা ব্যাটসম্যান আছে, আশা করি দায়িত্ব নিয়ে খেলবে। যে রানই আমরা করি, আশা করি সেটা নিয়েই আমরা লড়াই করতে পারব। আমরা আমাদের শক্তি সম্পর্কে জানি। আমাদের স্পিনাররা ভালো বোলিং করছে। ভালো ব্যাটিং হলে স্পিনারদের জন্য কাজ সহজ হয়ে যাবে।’

এক উইকেট হারিয়ে ১৭১ রান- ঢাকা টেস্টে শুরুটা ভালোই ছিল বাংলাদেশের। অথচ ৪৯ রানে যোগ করতেই বাকি নয় উইকেট হারিয়ে বসেছে স্বাগতিকরা। এমন ব্যর্থতার উত্তরে বাংলাদেশের ওপেনার তামিম ইকবাল বললেন, ‘সত্যি কথা বলতে কি, যেভাবে আমাদের নয়জন ব্যাটসম্যান আউট হয়েছে, এর উত্তর আমার কাছে নেই।' আজ শুক্রবার মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে প্রথম দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
 
তামিম আরো বলেন, 'আমাদের ব্যাটসম্যানরা যেভাবে আউট হয়েছে, এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমাদের আরো সতর্ক হয়ে খেলা উচিত ছিল।’
বাংলাদেশ দলের সহ-অধিনায়ক বলেন, ‘আমাদের ব্যাটসম্যানরা ব্যর্থ হয়েছে -এটা অস্বীকার করার উপায় নেই। তবে প্রতিপক্ষ দলও ভালো বল করেছে। আমাদের কিছু ভুল ছিল বলেই বড় সংগ্রহ গড়া সম্ভব হয়নি।’
আরো ১০০ রান যোগ করতে পারলে ভালো হতো বলে মনে করেন তামিম ইকবাল। তিনি বলেন, ‘যেভাবে আমার শুরু করেছিলাম, সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে ভালোই হতো। অন্তত পক্ষে আরো ১০০ রান যোগ করতে পারলে ভালো হতো। হয়তো লিড নেওয়া সম্ভব হতো।’

ঢাকা টেস্টের প্রথম দিনে দাপট দেখিয়েছেন বোলাররা। একদিনে ১৩ উইকেট পড়েছে। দু-একজন ছাড়া কোনো ব্যাটসম্যানই খুব একটা ভালো খেলতে পারেননি। ব্যাটসম্যানের এই ব্যর্থতার দিনে ব্যতিক্রম ছিলেন বাংলাদেশ ওপেনার তামিম ইকবাল।
শুধু ব্যতিক্রম বললে কমই বলা হবে। দারুণ উজ্জ্বলতা ছড়িয়েছেন তামিম। করেছেন ক্যারিয়ারের অষ্টম শতক, এই ইংল্যান্ডের বিপক্ষেই তৃতীয়। তাই শতকটা তামিমের কাছে ‘স্পেশাল’।
দলের ব্যাটিং ব্যর্থতার দিনে নিজের সাফল্যে দারুণ খুশি তামিম। শুক্রবার মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে প্রথম দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘হঠাৎ যেভাবে আমরা উইকেট হারিয়েছি, এটা আসলেই খারাপ লাগার বিষয়। তাই এদিনে শতকটা আমার কাছে স্পেশাল মনে হচ্ছে। শুধু এটিই নয়, প্রতিটি শতকই আমার কাছে স্পেশাল।’
তামিম-মুমিনুল জুটি আরো কিছুক্ষণ উইকেটে থাকতে পারলে ভালো হতো। এ সম্পর্কে বাংলাদেশ ওপেনার বলেন, ‘আমরা যদি আরো কিছুক্ষণ উইকেটে থাকতে পারতাম, তাহলে হয়তো এমন ব্যাটিং বিপর্যয় হতো। আমাদের উচিত ছিল অন্তত আরো ৫০ রান যোগ কারে আসা। কিন্তু আমরা তা পারিনি।’
অবশ্য নিজের আউটের জন্য নিজেকেই দুষেছেন তামিম, ‘আমি যেভাবে আউট হয়েছি, তা মোটেও ঠিক হয়নি। এই ভুলটি আমারই ছিল। কিন্তু এই ভুলের কোনো উত্তর নেই।’
এই ম্যাচে ১০৪ রানের ইনিংসটি খেলতে ১৪৭ বল খরচ করেছেন এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। যাতে চারের মার ছিল ১২টি। অনেকটা ওয়ানডে স্টাইলে খেলেছেন তিনি। এ সম্পর্কে বাংলাদেশ ওপেনার বলেন, ‘টেস্ট বা ওয়ানডে হোক, আমি এভাবেই খেলতে পছন্দ করি। বলতে পারেন কিছুটা মেরে খেলা আমার পছন্দ।’




সপ্তাহ খানেক পরই শুরু হবে বাংলাদেশ ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় ফ্রাঞ্চাইজি ভিত্তিক ক্রিকেট টুর্নামেন্ট বিপিএল। সে উপলক্ষে বেশ জোরেশোরেই মাঠে নেমেছে দলগুলি।  এবারের বিপিএল শুধু ক্রিকেটারদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। এবারও মাঠের পাশে-গ্যালারিতে থাকবেন বিনোদন অঙ্গনের তারকারাও।

বিপিএল এবারের আসরের অন্যতম চমক নতুন দল খুলনা টাইটানস। এই দলটির পক্ষ নিয়ে মাঠে থাকার কথা রয়েছে এক ঝাঁক তারকার।

বৃহস্পতিবার সেটাই জানান দিয়েছেন তরুণ অভিনয়শিল্পী ও মডেলরা। এরমধ্যে রয়েছেন টয়া, সাবিলা নূর, বেনজির ইসরাত, সাফা কবির, তৌসিফ, সৌভিক, সিয়াম, তামিম ও সৌমিক।

সাবিলা, টয়া ও বেনজির জানালেন, তারা সবাই খুলনা টাইটানস-এর জন্য মাঠে যাবেন। দর্শকদের উৎসাহ দেবেন। মূলত দলটির হয়ে সরাসরি প্রচারণায় অংশ নেবেন এ তারকারা।

এ তো গেল টেলিভিশনের শিল্পীদের কথা।

এদিকে খুলনা টাইটানস সূত্রে জানা গেল, দলের হয়ে চলচ্চিত্রের  একাধিক জনপ্রিয় মুখকেও মাঠে দেখা যাবে। এদের মধ্যে আরও আছেন আরিফিন শুভ, ইমন, নিরবসহ বেশ কয়েকজন শিল্পী।

বিপিএল-এর চতুর্থ আসরে খুলনা টাইটানসের নেতৃত্ব দেবেন জাতীয় দলের নির্ভরযোগ্য অলরাউন্ডার মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। কোচ হিসেবে আছেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অস্ট্রেলীয় কোচ স্টুয়ার্ট ল। 


ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টেই নতুন মাইলফলক স্পর্শ করবেন মুশফিকুর রহিম। এই ম্যাচের মধ্য দিয়েই টেস্টে ৫০ ম্যাচ পূর্ণ হবে মুশফিকের।

বাংলাদেশের হয়ে পঞ্চাশ কিংবা তার বেশি টেস্ট খেলা ক্রিকেটার মাত্র দুইজন। তৃতীয় বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবেই এ মাইলফলক স্পর্শ করতে যাচ্ছেন মুশফিক।

বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৬১টি টেস্ট খেলেছেন মোহাম্মদ আশরাফুল। হাবিবুল বাশার সুমন খেলেছেন ৫০ ম্যাচ। খালেদ মাসুদ পাইলট খেলেছেন ৪৪ ম্যাচ। সমান ৪৩টি করে ম্যাচ খেলেছেন সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবাল।

এমন মাইলফলকের সামনে দাঁড়িয়েও মুশফিকের কণ্ঠে বেশি টেস্ট খেলতে না পারার অাক্ষেপ। মুশফিক বলেন, '৫০ টেস্ট মানে অনেক বড় ব্যাপার। অবশ্যই খুব ভালো লাগছে। বিশেষ করে আমরা তো খুব বেশি টেস্ট খেলার সুযোগই পাই না'। সেদিক থেকে ৫০ টেস্ট খেলা মানে অনেক বড় মাইলস্টোন। ভালো লাগবে এই টেস্টে যদি ভালো কিছু করতে পারি, আরও ভালো লাগবে দল ভালো কিছু করলে।

ক্রিকেট তীর্থ লর্ডসে যেদিন সবচেয়ে মর্যাদার এ লড়াইয়ে অভিষেক হলো মুশফিকের সেদিন মুশফিকের বয়স ১৭ বছর ৩৫১ দিন! অনেক ইতিহাসের সাক্ষী এই মাঠে এত কম বয়সে অভিষেক হয়নি আর কোনো ক্রিকেটারের, রেকর্ডটি টিকে আছে এখনও।

দেখলে তখন মুশফিকের বয়স মনে হতো আরও কম। ইংলিশ ধারাভাষ্যকাররা সে সময় 'বেবিফেস' কথাটি বলেছেন বারবার। এরপর পেরিয়ে গেছে প্রায় এক যুগ। চেহারায় কৈশোরের ছাপ আছে এখনও। তবে পারফরম্যান্স, অভিজ্ঞতা ও দায়িত্বের ভারে তিনিই এখন বাংলাদেশ ক্রিকেটের বড় নাম। অভিষেকে প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ডের বিপক্ষেই খেলতে নামছেন ক্যারিয়ারের ৫০তম টেস্ট।

পেছন ফিরে তাকিয়ে, শুরুর দিনগুলিতে ফিরে গিয়ে স্মৃতিচারণ করলেন মুশফিক, 'আমার শুরু টেস্ট দিয়ে'। টেস্টের প্রতি ভালোবাসাটাও ছিল আগে থেকে। সবসময়ই চাইতাম অনেক অনেক টেস্ট খেলতে। স্বপ্ন তাই অনেক ছিল। তবে শুরুতে তো আর কেউ ভাবতে পারে না এতদূর আসবে! আর আমাদের টেস্ট খেলার সুযোগই আসে কম।
'ভালো লাগছে যে আজকে পর্যায়ে আসতে পারছি'। আমাদের মাত্র দুজন ক্রিকেটার আগে পঞ্চাশ টেস্ট খেলতে পেরেছেন। নিজেকে অবশ্যই ভাগ্যবান মনে হচ্ছে'।

এই পর্যায় আসার পথচলাটা খুব মসৃণ ছিল না। অভিষেকে শুধু ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলে ১৯ ও ৩ রান করে হারিয়েছিলেন জায়গা। আবার টেস্ট খেলার সুযোগ পেলেন পরের বছর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। নিজ শহর বগুড়ায় সেই টেস্টে ২ ও ০ করার পর আবার বাদ।

আরেকটি টেস্ট খেলার জন্য আবার অপেক্ষা ১৬ মাসের। এবার শ্রীলঙ্কা সফর। প্রথম টেস্টেও একাদশের বাইরে ছিলেন। বিবর্ণ খালেদ মাসুদের জায়গায় সুযোগ মিলল সফরের দ্বিতীয় টেস্টে। উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান হিসেবে প্রথমবার। কলম্বোর পি সারা ওভালে সেই ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসে ৮০ রানের দুর্দান্ত ইনিংসের পর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি মুশফিককে।

২০০৭ সালের জুলাই থেকে বাংলাদেশের সবকটি টেস্ট (৪৭টি) খেলেছেন একমাত্র মুশফিকই। মিরপুর টেস্টের পর এ বছর বাংলাদেশের আর টেস্ট নেই। তবে সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী বছর থাকছে ১১টি টেস্ট। বাংলাদেশের হয়ে আশরাফুলের ৬১ টেস্ট খেলার রেকর্ড তাই স্পর্শ করতে পারেন আগামী বছরই। বয়স কেবলই ২৯। আশরাফুলকে ছাড়িয়েও এগিয়ে যেতে পারেন অনেক দূর।

ঢাকায় দ্বিতীয় টেস্টে দলে হুট করে ডাক পেয়েছেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। চট্টগ্রামে প্রথম টেস্টের পর সাব্বির রহমানের অসুস্থতার খবর এবং সৈকতকে দলে নেওয়ার যোগসূত্র খুঁজে পান অনেকেই। অসুস্থতার কারণে যদি শেষ পর্যন্ত সাব্বির খেলতে না পারেন সে ক্ষেত্রে একাদশে সুযোগ পেতে পারেন এই তরুণ অলরাউন্ডার।
বাংলাদেশের টিম ম্যানেজমেন্টের একটি সূত্রে জানা গেছে, দলে ডাক পেলেও সৈকতের অভিষেকের অপেক্ষা আরো বেড়ে যাচ্ছে। সাব্বির এখন অনেকটাই সুস্থ। বৃহস্পতিবার তিনি অনুশীলনও করেছেন। তাই একাদশে তাঁর জায়গা পাওয়া নিশ্চিতই বলা যায়।
জ্বর ও গ্যাস্ট্রিকের ব্যথা নিয়েই চট্টগ্রাম টেস্ট খেলেছিলেন সাব্বির। তাই ঢাকায় ফেরার পরই চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হয় তাঁকে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তাঁর অ্যান্ডোসকপিও করানো হয়। রিপোর্টে দুশ্চিন্তার কোনো খবর আসেনি। সাধারণ গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা তাঁর।
জাতীয় দলে ডাক পাওয়া আরেক নতুন মুখ পেসার সুভাশীষ রায় দলে জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়েও কম আলোচনা হচ্ছে না। অবশ্য দলে তাঁর জায়গা পাওয়াটা নির্ভর করছে, একাদশে কয়জন পেসার খেলানো হবে তার ওপর। চট্টগ্রামে দুই পেসার খেলানো হলেও ঢাকায় এক পেসার নিয়েও মাঠে নামতে পারে বাংলাদেশ।
এক পেসার খেলানো হলে কামরুল ইসলাম রাব্বি দলে জায়গা পাচ্ছেন এটা নিশ্চিত। আর যদি দুজন খেলানো হয় সে ক্ষেত্রে শুভাশীষ দলে জায়গা পেতে পারেন।
অবশ্য শোনা যাচ্ছে এই ম্যাচে স্পিনে প্রাধান্য দেবে বাংলাদেশ। সে ক্ষেত্রে এক পেসার খেলানো হলে অলরাউন্ডার শুভাগত হোম একাদশে সুযোগ পেলে তাতে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। তবে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ দুই পেসার খেলাতেও পারে।     
ঢাকা টেস্টের সম্ভাব্য বাংলাদেশ একাদশ : মুশফিকুর রহিম (অধিনায়ক), তামিম ইকবাল, ইমরুল কায়েস, মাহমুদউল্লাহ, মুমিনুল হক, সাকিব আল হাসান, সাব্বির রহমান, তাইজুল ইসলাম, মেহেদি হাসান মিরাজ, কামরুল ইসলাম রাব্বি ও শুভাশীষ রায়।


টেস্ট দলের দায়িত্বে নেই। তাই বলে দলের সাথে নেই বললে ভুল হবে। মাশরাফির কথাতে অন্তত সেটাই মনে হলো। আজ বিকেলে ঢাকাস্থ ড্যানিশ দূতাবাসে এক সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। যেখানে ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে মাশরাফি ডায়াবেটিসের বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করবেন বলে জানানো হয়।

সেখানে বাংলাদেশ দলকে উদ্দেশ্য করে মাশরাফি বলেন,  দীর্ঘ ১৫ মাস টেস্ট ম্যাচ থেকে বাইরে থাকার পরেও চট্টগ্রামে সিরিজের প্রথম টেস্টে মুশফিকদের লড়াকু মনোভাবের বাহবা দিলেন টাইগার ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা।

অভিজ্ঞ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সতীর্থদের প্রসংশা করে মাশরাফি জানান, ‘আপনি ১৫ মাস পরে যদি মাঠে নামেন তাহলে অভিজ্ঞতাটা কখনই হয় না। আমরা এতদিন খেলেছি ঠিকই, কিন্তু সবই ছিল টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডে। টেস্টে আমাদের আরেকটি বিষয় দেখেন, মুশফিক এতদিন খেলেও শুক্রবার (২৮ অক্টোবর) সে ৫০তম টেস্ট ম্যাচ খেলতে নামবে। যেখানে ইংল্যান্ডের অধিনায়ক অ্যালিস্টার কুক মুশফিকের পরে ক্যারিয়ার শুরু করে খেলেছে ১শ’রও বেশি টেস্ট ম্যাচ। অভিজ্ঞতার বিচারে তাই ওরাই এগিয়ে। ওই হিসেবে প্রথম ম্যাচে আমরা যথেষ্টই ভালো খেলেছি।’

উইকেটের বৈরী আচরণের পরেও প্রথম টেস্টে ইংলিশদের বিপক্ষে অসাধারণ খেলেছে মুশফিক বাহিনী। চতুর্থ দিন শেষে সাব্বির রুম্মনের অপরাজিত ৫৯ রানের ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ যখন জয় থেকে মাত্র ৩৩ রান পিছিয়ে, তখন অনেকের মনেই ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ের স্বপ্ন উঁকি দিয়েছিল। যদিও শেষ পর্যন্ত ২২ রানে স্বাগতিকরা হেরে গেছে। 

মাশরাফি জানান, ‘পাঁচ দিনই আমরা সুযোগ তৈরি করেছি। ভাগ্য সাথে না থাকায় ইংল্যান্ড জিতে গেছে। এটা ক্রিকেটে হয়েই থাকে।’

তবে ঢাকায় সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশ ভালো কিছু করবে বলেই প্রত্যাশা করছেন ম্যাশ। আর তাদের সেই লক্ষ্যে প্রথম ম্যাচের প্রাপ্তিগুলোই উজ্জ্বীবিত করবে বলে মনে করেন টাইগারদের সীমিত ওভারের দলপতি।

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ ‘সাব্বির (রহমান) কিছুটা অসুস্থ। এ জন্যই মোসাদ্দেককে (হোসেন সৈকত) দলে রাখা হয়েছে।’ -কথাটি বলেছেন প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু। তাতেই বোঝা যাচ্ছে, ঢাকা টেস্টে পেটের পীড়ায় ভোগা সাব্বিরের খেলা নিয়ে শঙ্কা আছে। সাব্বির যদি না খেলেন, তাহলে টেস্টে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের অভিষেক হয়ে যেতে পারে।
চট্টগ্রাম টেস্টে কি দারুণ ব্যাটিংই না করলেন সাব্বির। অসাধারণ ব্যাটিং করেছেন। প্রথম ইনিংসে ১৯ রান করে আউট হয়েছিলেন। তবে দ্বিতীয় ইনিংসে ৬৪ রান করে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন। শুধু কি তাই। তিনিই তো বাংলাদেশকে জয়ের আশা দেখাচ্ছিলেন। দ্বিতীয় টেস্টের শেষদিনে জিততে ৩৩ রান লাগত। এমন মুহূর্তে যদি তাইজুল ইসলাম ও শফিউল ইসলাম মিলে সাব্বিরকে ভাল সঙ্গ দিতে পারতেন, তাহলে হয়ত ২২ রানের হার হত না বাংলাদেশের। উল্টো জয়ের বন্দরেই পৌঁছাত। কিন্তু তা হলো না। তবে সাব্বির ঠিকই সবার মনে জায়গা করে নিয়েছেন। সেই সাব্বিরই এখন ঢাকা টেস্টে খেলতে পারবেন কিনা, তা নিয়ে আছে শঙ্কা।
প্রথম টেস্টের শুরু থেকেই পেটের পীড়ায় ভুগছেন সাব্বির। তা টিম ম্যানেজমেন্টকে নিজে জানিয়েছেনও। এরপরও খেলেছেন। ভালও খেলেছেন। এখন দলের সঙ্গে মঙ্গলবারই ঢাকায় ফিরেছেন সাব্বির। পেটের ব্যথা এখনও খানিকটা আছে। প্রাথমিক পরীক্ষার পর অবশ্য আশঙ্কাজনক কোন কিছু ধরা পড়েনি। তবে আবারও পরীক্ষা করা হবে। এরপরই তাকে খেলান নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। ঢাকা টেস্টে যদি সত্যিই না খেলেন সাব্বির, তাহলে বাংলাদেশ দলের শক্তি খানিকটা কমে যাবে। কারণ এরমধ্যেই যে ইংল্যান্ড শিবিরে আতঙ্ক তৈরি করতে পেরেছেন।
সাব্বির শেষ পর্যন্ত খেলতে পারবেন, সেই আশাই করা হচ্ছে। তবে এরমধ্যে প্রধান কোচ চন্দিকা হাতুরাসিংহের যে একটি রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছেন সাব্বির, সেটি নিয়েই বেশি আলোচনা হচ্ছে। অভিষেক টেস্টে নিজের দ্বিতীয় ইনিংসে ও ম্যাচের চতুর্থ ইনিংসে ৬৪ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন সাব্বির। আর তাতেই হাতুরাসিংহের রেকর্ড ছুঁলেন। সাব্বিরই হলেন একমাত্র বাংলাদেশী যিনি অভিষেক টেস্টের চতুর্থ ইনিংসে হাফ সেঞ্চুরি করেন। হাতুরাসিংহেও তাই করেছিলেন। প্রথম শ্রীলঙ্কান হিসেবে এই কীর্তি গড়েছিলেন। ১৯৯৯ সালে অভিষেক টেস্টেই হ্যামিল্টনে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে হাতুরাসিংহে করেন ২৩ রান। নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ও ম্যাচের চতুর্থ ইনিংসে তিনি খেলেন ৮১ রানের অনবদ্য এক ইনিংস। ম্যাচটা শেষ পর্যন্ত ড্র করে শ্রীলঙ্কা। কিন্তু এবার পারেনি বাংলাদেশ। ২২ রানে হেরে যায়। জয় পাওয়ার মতো অবস্থায় থেকে আরেকটি টেস্ট হারে বাংলাদেশ। তবে সাব্বির গুরু হাতুরাসিংহের রেকর্ডে ভাগ বসান। সেই গুরু কী চাইবেন দ্বিতীয় টেস্টে সাব্বির ড্রেসিংরুমে বসে থাকুক? কোনভাবেই না। তবে যদি শেষ পর্যন্ত অসুস্থ ভাব যদি না যায়, তাহলে কিছুই করার থাকবে না। তখন সাব্বিরকে সত্যি সত্যিই ঢাকা টেস্টে দেখা যাবে না। সেই শঙ্কা এখনও আছে।

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ চট্টগ্রাম টেস্ট শেষ। দুর্দান্ত খেলেছে বাংলাদেশ। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সমান তালে লড়াই করে গেছে। শেষটা আর বাংলাদেশের ভাগ্যে জুটেনি। তাই ২২ রানে হার হয়েছে। এবার ঢাকা টেস্টে নামার পালা। শুক্রবার শুরু হবে এই টেস্ট। যেটি আবার সিরিজ ফয়সালার টেস্ট।
চট্টগ্রাম থেকে এরই মধ্যে ঢাকায় এসে পড়েছেন দুই দলের ক্রিকেটাররা। আজ অনুশীলনেও নামবেন ক্রিকেটাররা। এরপর মাঝখানে আরেকদিন অনুশীলন করেই দ্বিতীয় টেস্টে নেমে যেতে হবে। এ টেস্টের জন্য ইংল্যান্ড দল অপরিবর্তিত থাকলেও বাংলাদেশ দলে পরিবর্তন এসেছে। মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতকে নেয়া হয়েছে। যাকে প্রথম টেস্টেই দলে রাখার কথা জানা গিয়েছিল। এরপর পেসার শফিউল ইসলামের পরিবর্তে নেয়া হয়েছে আরেক পেসার শুভাশীষ রায়কে।
প্রথম টেস্টে জিতে ১-০ ব্যবধানে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে পিছিয়ে গেছে বাংলাদেশ। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে দুইদিন পর শুরু হতে যাওয়া টেস্টে হারলে আবারও হোয়াইটওয়াশ হবে বাংলাদেশ। এরআগে টেস্টে চারবার ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ খেলে প্রতিবারই হোয়াইটওয়াশ হয়েছে বাংলাদেশ। এবার হারলে সাড়ে ছয় বছর পর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলতে নেমেও সেই একই নিয়তি হবে। তবে এবারের হারটিতে থাকবে আনন্দ। চট্টগ্রাম টেস্টেই সে আনন্দ মিলে গেছে।
আরেকটু উইকেটে যদি টিকে থাকতে পারতেন সাব্বির রহমান রুম্মন ও তাইজুল ইসলাম। তাহলে হয়ত টেস্ট জয় নিয়েই ইতিহাস গড়তে পারত বাংলাদেশ। টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের প্রায় ১৬ বছর হয়ে গেল। এই দীর্ঘ সময়ে যে কাজটি করতে পারেনি বাংলাদেশ, সেটিই করার পথে এগিয়ে গিয়েছিল। আর ৩৩ রান করতে পারলেই ইংল্যান্ডকে প্রথমবারের মতো টেস্টে কুপোকাত করে দিত বাংলাদেশ। সেটি করতে পারলে ইতিহাসই গড়ে ফেলত। ২১৫ রানের বেশি টার্গেটে বাংলাদেশ যে কখনই জিততে পারেনি। কিন্তু বাংলাদেশ পারল না। ইতিহাস বদলাতে পারল না। বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসের সেরা জয়টিও শেষ পর্যন্ত মিলল না। চট্টগ্রাম টেস্টের প্রথম ইনিংসে ২৯৩ রান করেছিল ইংল্যান্ড। বাংলাদেশও প্রথম ইনিংসে তা অতিক্রম করার মতো অবস্থায় ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ২৪৮ রানে গুটিয়ে যায়। পিছিয়ে পড়ে প্রথম ইনিংসেই ৪৫ রানে। ইংল্যান্ড দ্বিতীয় ইনিংসে খেলে বিপাকে পড়ে যায়। দ্বিতীয় ইনিংসে ২৪০ রান যোগ করতে পারে। বাংলাদেশের সামনে জিততে ২৮৬ রানের টার্গেট দাঁড় করায়। সেই টার্গেটে খেলতে নেমে মুশফিক ও সাব্বির মিলে দলকে জেতানোর স্বপ্নও দেখান। কিন্তু চতুর্থদিনের শেষভাবে এসে মুশফিক আউট হয়ে যান। সেখানেই বিপত্তি ঘটে। এরপরও সাব্বির ও তাইজুল মিলে চতুর্থদিন টিকে থাকেন। পঞ্চমদিনে জয়ের আশাও দেখান। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ২৬৩ রানেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। হারই হয় নিয়তি। তবে এ হারে গর্ব থাকে। ইংল্যান্ডকে যে এরআগে কখনই চাপে রাখা যায়নি। এবারতো পুরো টেস্ট জুড়েই ইংল্যান্ডকে বিপাকে ফেলে রেখেছে বাংলাদেশ। প্রায় ১৫ মাস পর টেস্ট খেলতে নেমেই এমন পারফর্মেন্স দেখিয়েছে বাংলাদেশ। তাতে করে সবাই দলের ক্রিকেটারদের প্রশংসাই করছেন। বিশেষ করে অভিষেক টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে যে সাব্বির দুর্দান্ত ব্যাটিং করেছেন, শেষ পর্যন্ত জয়ের আশা দেখিয়ে গেছেন, অপরাজিত ৬৪ রান করেছেন; তার প্রশংসাই সবার কণ্ঠে মিলছে।
প্রধান কোচ চন্দিকা হাতুরাসিংহেতো সাব্বিরের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। বলেছেন, ‘আমি অনেক প্রতিযোগিতাপূর্ণ টেস্ট ম্যাচ দেখেছি। তার মধ্যে এটিকেও অন্যতম সেরা ম্যাচ হিসেবে রাখব। এই উইকেটে খেলা অনেক কঠিন। কিন্তু আমার ছেলেরা দুর্দান্ত খেলেছে। বিশেষ করে সাব্বির অনেক চাপের মধ্যেও দুর্দান্ত খেলেছে।’ শুধু সাব্বিরই নন, অন্যদের প্রশংসাও করেছেন হাতুরাসিংহে, ‘মুশফিক, ইমরুল ও তামিম খুব ভাল ইনিংস খেলেছে।’
তবে সবার মনেই প্রশ্ন জেগেছে। ম্যাচটি বাংলাদেশেরই জেতার কথা। কিন্তু হার হলো কোথায়? সবারই বোঝা হয়ে গেছে। চতুর্থদিনে যে বাংলাদেশের হাতে প্রথম ইনিংসে ৫ উইকেট ছিল, সেই উইকেটগুলো মাত্র ২৭ রানেই পতন ঘটল; সেখানেই পিছিয়ে পড়ল বাংলাদেশ। তবে এ টেস্ট থেকে অনেক শিক্ষা মিলেছে। যা ভবিষ্যতে কাজে লাগাতে পারবেন ক্রিকেটাররা। বাংলাদেশ টেস্ট দলের অধিনায়ক মুশফিকুর রহীমই সেই ভুলগুলো সম্পর্কে জানিয়েছেন। বলেছেন, ‘আগেও বলেছিলাম, আমরা যেন পাঁচদিন ধারাবাহিক ক্রিকেট খেলতে পারি। আমার মনে হয়, আমরা পুরো টেস্টে ৯২ থেকে ৯৫ শতাংশ ভাল ক্রিকেট খেলেছি।’ সঙ্গে যোগ করেন, ‘জিতলেই যে আমরা টেস্টে আহামরি দল হয়ে যেতাম, তা নয়। আমাদের যে লক্ষ্য ছিল, সেটা অর্জন করতে পেরেছি। চারটি দিন ওদের সঙ্গে প্রায় সমানে সমান ছিলাম। আমাদের আরও বেশি দীর্ঘ পরিসরের ম্যাচ খেলতে হবে। টেস্ট এমন একটি খেলা, যত খেলবেন ততই উন্নতি করার সুযোগ থাকে। খারাপ খেলার শঙ্কা কমে আসে। তত বেশি আপনি বুঝবেন ক্রিকেটে আপনাকে এভাবে রান করতে হবে, কোন পরিস্থিতিতে কিভাবে ব্যাটিং-বোলিং করতে হবে। আমি যে ৪৯টি টেস্ট খেলেছি, প্রতিটি ম্যাচই নতুন মনে হয়েছে। তাহলে যার অভিষেক হয়েছে, তাকে কিভাবে বলব তোমরা এভাবে খেল! ম্যাচটা আমাদের শেখার অনেক সুযোগ দিয়েছে। এ ধরনের উইকেটে আমরা বুঝতে পারব কোন সময়ে কোন সিদ্ধান্ত নিতে হবে, প্রতিপক্ষকে কত রানের ভেতর রাখতে পারলে ভাল হবে, চতুর্থ ইনিংসে কতটা রান তাড়া করা সম্ভব।’

বিগ ব্যাশ চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে খেলবে মাশরাফিরা

মঙ্গলবার অক্টোবর ২৫, ২০১৬




বিশ্বের জনপ্রিয় অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া টি-টুয়েন্টি ক্রিকেট লিগ বিগ ব্যাশের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন সিডনি থান্ডারের বিপক্ষে খেলতে নামবে মাশরাফিরা। এ বছরের শেষ দিকে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে মুখোমুখি হবে দু'দল। নিউজিল্যান্ড সফরকে সামনে রেখে বিসিবি একাদশে বিভক্ত হয়ে এ ম্যাচে অংশ নিবে সফরকারীরা। দু’দলের মধ্যকার এ ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে সিডনির হোম গ্রাউন্ডে চলতি বছরের ১৬ ডিসেম্বর।

নিউজিল্যান্ড সফরকে সামনে রেখে টাইগাররা চলতি বছর কন্ডিশনিং ক্যাম্প করবে অস্ট্রেলিয়ায়। মূলত এশিয়া থেকে নিউজিল্যান্ডের ভিন্ন আবহাওয়া ও কন্ডিশন সম্পর্কে ধারণা পেতে এ ক্যাম্পে অংশ নিবে টাইগাররা। আর এ প্রস্তুতিকে পরিপূর্ণতায় রুপ দিতে সফরে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড।

সিডনি থান্ডারের সাবেক কোচ চান্দিকা হাথুরুসিংহে যিনি বর্তমানে টাইগারদের প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োজিত রয়েছেন মূলত তার সিদ্ধান্ত ও চেষ্টাতেই এ ম্যাচটি আয়োজন করা হচ্ছে।

এ ম্যাচ প্রসঙ্গে চান্দিকা হাথুরুসিংহে বলেন, ''চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে তাদের মাঠে টাইগাররা ম্যাচটি কীভাবে নেয় তা দেখার অপেক্ষায় আছি। আশা করি ম্যাচটি আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করবে।''

তিনি আরো বলেন, ''বাংলাদেশ অনেক ভালো ক্রিকেট খেলছে বিশেষ করে ৫০ ওভারের ম্যাচগুলোতে। তবে টি-টোয়েন্টিতে আরো উন্নতির অনেক দিক বাকী রয়েছে। দলটিতে বেশ কয়েকজন অসাধারণ ক্রিকেটার রয়েছে আর বড় দলগুলোর সাথে খেলাই আপনাকে দেখিয়ে দিবে ক্রিকেটাররা কোন আবস্থানে আছে।''

অন্যদিকে এ ম্যাচ আয়োজন করার সুযোগ পেয়ে সিডনি থান্ডার কতৃপক্ষ বেশ আনন্দিত।


For the briefest of seconds, it seemed like a time lapse, or highlights footage of the mid-noughties. Mahendra Singh Dhoni had just bludgeoned Tim Southee through midwicket, a stroke stamped with muscular brutality. Dhoni didn’t care as much to follow the path of the ball or stand frozen watching it rebound off the boundary ropes.
There was nothing unusual or incredulous about the shot — a cross-batted swivel, a feature of most Dhoni knocks. But it was the timing of it, albeit not in the shot-making sense, which was surprising. It was just the sixth ball he was facing. India had just lost Rohit Sharma. As if promoting himself wasn’t a surprise in itself, watching Dhoni charging down and flat-batting a medium-pacer was an atavism.
Images of a long-maned dasher came flooding back. In many ways, his 91-balled 80 was a throwback, not fully but for most parts. A threadbare dissection of his numbers would suggest he was batting like he’d been in his fabled finisher-avatar. However, that was not the case.
Dhoni was revelling in the newfound freedom of batting up the order. He might be monkish in concealing emotions on the field, even in the middle of a daunting chase, but here a more unrestrained, nonplussed self, manifested. The body language was one of dominance and not practised restraint.
Later in the night, he clarified the approach. He admitted the decision had a bit of “self” in it — his diminished ability to farm strike being the most apparent reason. That “self” could be indulged, for he has reached that stature where he can afford such liberties.
In the past too, we’ve indulged Sachin Tendulkar’s steadfast fixation with opening in ODIs, and he was palpably upset with then coach Greg Chappell, who wanted him to bat down the order. The experiment was shelved with Chappell’s departure. Another example is former Australia skipper Michael Clarke, who adamantly clung on to the number five spot in Tests until the fag end of his career.
But here, there was a pervading sense of pragmatism as well. Neither Dhoni nor the team management wants him to be a liability, and wasted lower down the order, sweating to finish matches, which could have only hastened his walk into the sunset. He is the captain, wicket-keeper — two of the most demanding tasks on the field—and of course undroppable. So why not give him a slot where he can be comfortable, and where he again illustrated on Sunday the requisite traits of a number four batsman. In fact, he has always been utmost comfortable batting at four—he averages 61.63 in 24 innings–or upwards.
It’s not like Dhoni is seeking a convenient way out of his recent travails, but looking to make himself more relevant. For batting at No 4, or any other spot, brings with it a certain responsibility. What it gives Dhoni is more time to control and impact the match, to modulate the tempo when they are batting first or orchestrating a chase. “First thing that helps is you are only two down. You can go up there and play the big shots,” he said.
It also implies that he’s more often than not batting with the top three, ensuring that Dhoni gets more time to bed in before he shifts gears. “It gives me a chance to bat with Virat. We run very well between the wickets, we can take on the opposition fielders even the best ones. It really helps to build partnerships. If you get a good partnership between 100-125 it becomes slightly easier for the batsman coming after that.”
There is also a sense of entitlement Dhoni might feel, like when he said, “I have batted lower down for a long time, I think 200 innings down the order.” It’s legitimate. For India were so stuffed with strokemakers during most of Dhoni’s time that there hardly ever was a vacancy. Finishing duties were thrust upon him. Later, as the galacticos departed one after another, opportunities presented themselves, but Dhoni then was in his prime (as finisher) and resisted such temptations.
Another point of consideration is that though he has nuanced the finisher role, after a point he was writhing in the cringing burden of it. It was getting a little too monotonously repetitive. “Often, you will get in with the last 10 or 12 overs, trying to slog and trying to get as many runs as possible, or the other way round where in the 20th over maybe where you’ve lost five wickets and are looking for a partnership. When you know there’s just one batsman after you, you actually weigh in a lot of things.
You have to be close to 90 percent sure all the time when you are setting out and looking for a big hit. It becomes more result-oriented,” he said.
The role tweak is very much a fabric of the modern team-game, especially in guaranteeing longevity without compromising on utility, and there are a lot of instances wherein it has worked spectacularly. Like Cesare Prandelli tinkering with the role of ageing Azzuri playmaker Andrea Pirlo for Italy. From an advanced role in the midfield, he remoulded him to a regista, or deep-lying playmaker, where he needn’t have to make too many runs and could dictate the match with measured passes. So did Sir Alex Ferguson while prolonging careers of Paul Scholes and Ryan Giggs. These weren’t drastic alterations to your vocation, just subtle role-change. It’s not like a goalkeeper suddenly wanting to be a striker or a fast bowler deciding to open the innings.
Structural confusion
Then, the success of role-tweaks also depends on how their colleagues also adjust to it and fit into the overall scheme. In India’s case, it hinges on how the team will be formatted once several of the regulars return. When Shikhar Dhawan returns,Ajinkya Rahane will have to come lower down the order. That the Mumbaikar loves batting in the top order is more than evident, but Dhawan’s claims are untenable in this format. This means, Rahane will have to invariably bat at five, where his adaptability is a concern. He should, at the latest, come at number four to influence the match, and Dhoni himself has been a little skeptical of Rahane’s finishing utility.
Then there are the likes of KL Rahul, who too is primarily a top-order batsman, and whose utility down the order is untested, and Manish Pandey, widely considered the next finisher in line (albeit based on the singular proof of his hundred against Australia early this year). Not to discount the stakes of Suresh Raina, who until a year ago was touted a canny finisher.
So Dhoni’s promotion has the potential to trigger a minor structural mayhem, and irrespective of how India are to line-up in the Champions Trophy, a few batsmen will have to either bat out of their comfort zone or plainly sit out. And there are only a few matches—five, unless the itinerary is reworked– before the Champions Trophy to judge which batsman fits where. But Dhoni sees this conundrum in a different light. “It gives a chance to some of the other youngsters to bat lower down the order and see as to what really needs to be done, how calculated they need to be and all. There is one way of chasing which is hit, hit, hit and ultimately you achieve the target and often on slower wickets that is quite difficult to achieve. So, I feel it’s overall good for everyone,” he said.
Or in a different light, Dhoni wants the suitors to experience and learn what he had learnt on the job several years ago. “To go through the processes,” as he often says. For Dhoni the finisher was as much a product of circumstances as natural gift. If, maybe India weren’t blessed with stroke-makers of such supreme capabilities as Dhoni played along with, maybe Dhoni the finisher would have ceased to exist.
And in his last leg, he’s trying to blend the “self” with the “team” in the most optimal way. It’s, as Dhoni says, a “win-win situation” for all involved. It gives him, as well as the audience, the opportunity to re-acquaint with Dhoni’s old self.

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget